বিনোদন

বিষন্নতায় ভরা ২০ নভেম্বর! শুন্যতার বর্ষপূর্তিতে না ফেরার দেশে কেমন আছে ঐন্দ্রিলা?

দেখতে দেখতে আজ বিষন্নতার এক বছর। সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন ঐন্দ্রিলা শর্মা। অনুরাগীদের কাছে তাঁর স্মৃতি ফিকে হতে শুরু করেছে ধীরে ধীরে। কিন্তু বাবা মা দিদির কাছে আজও জীবন্ত ঐন্দ্রিলা শর্মা। তাঁর প্রতিটা মুহূর্ত আজও একই রকম টাটকা পরিবারের কাছে। তাই তো মৃত্যুর এক বছর পর আবার খুঁচিয়ে উঠছে সেই দগদগে ক্ষত।এত মাস পরেও আবার জীবন্ত হয়ে উঠেছে সে।

টানা যমে মানুষের লড়াইয়ের পর অবশেষে হার মেনেছেন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। মাত্র ২৪ বছরেই থেমেছে জীবন যুদ্ধের লড়াই। ২০১৫ সালের প্রথম ক্যান্সার ধরা পড়ে অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মার। এরপর তারা দেড় বছর লড়াই করে সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু ২০২১ সালে ফের তার দেহে থাবা বাসায় মারন রোগ। কিন্তু সেক্ষেত্রেও অদম্য জেদ ও লড়াইয়ের জেরে ফের একবার ফিরে আসেন ঐন্দ্রিলা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না তৃতীয়বারের বেলায়। ২০২২- এর পয়লা নভেম্বর ব্রেন স্টোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন অভিনেত্রী। টানা কুড়ি দিন লড়াই করার পর অবশেষে হার মানেন জীবনের সবথেকে বড় তিক্ত সত্যির কাছে। সবাইকে কাঁদিয়ে রবিবার দুপুর ১২টা ৫৯ নাগাদ প্রয়াত হন অভিনেত্রী।

বোনের মৃত্যুর পরেই নিজেরদের ছোটবেলার বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেন ঐন্দ্রিলার দিদি ঐশ্বর্য। সেখানে কোথাও দেখা যাচ্ছে দুই বোন দুজনকে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আবার কোথাও দেখা যাচ্ছে ঐশ্বর্য হাত ধরে রয়েছেন একরত্তি ঐন্দ্রিলার। আর সেই সমস্ত পোস্টেই ক্যাপশন এর জায়গায় লেখা, “আমার ছোট্ট বুনু, সারা জীবন দুজন দুজনের হাত ধরে বেঁচে ছিলাম আছি থাকবো”।

অভিনেত্রীর প্রয়াণে তার পরিবারের পাশাপাশি ভেঙ্গে পড়েছিল গোটা টলিউড। বোনের শেষ যাত্রায় দেখা গিয়েছিল দিদি ঐশ্বর্য তাকে সাজিয়ে দিচ্ছেন চন্দন ও লিপস্টিকে। পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে গিয়ে ঐন্দ্রিলা রেখে গেলেন এক অসামান্য লড়াইয়ের কাহিনী। আর তার সেই লড়াইকেই প্রতিমুহূর্তে কুর্নিশ জানিয়ে আবেগঘন পোস্ট করলেন দিদি ঐশ্বর্য।

কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরেও তাঁকে সকলের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাঁর পরিবার। মুর্শিদাবাদের মেয়ে ঐন্দ্রিলা। তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এবার মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৃক্ষ রোপন করেছেন অভিনেত্রীর মা শিখা শর্মা। এছাড়াও কিছুদিন আগেই মরণোত্তর বিশেষ কৃতী সম্মান দেওয়া হয়েছে অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মাকে। রাজ্য সরকারের তরফে আজীবন স্বীকৃতি এবং মরণোত্তর স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে ২০১৪ সাল থেকে।

অভিনেত্রীর হয়ে এই বিশেষ সম্মান গ্রহণ করেন তাঁর বাবা মা। মঞ্চে উঠেই বাঁধ ভাঙা চোখের জলে ভেসে যান মা। হাতে ছিল মেয়ের ছবি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “টেলি অ্যাকাডেমি মরণোত্তর স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছে আমার ঐন্দ্রিলা। আমরা মা-বাবা নিলাম। অসাধারণ আতিথেয়তা পেলাম মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে। উনি ঐন্দ্রিলাকে খুব ভালবাসতেন সে কথা জানালেন। অনেক কথা হল ঐন্দ্রিলাকে নিয়ে। আমরা আপ্লুত। আমার মানিকের স্মৃতি আঁকড়ে এভাবেই বেঁচে থাকব”।

মৃত্যুর পর থেকেই ঐন্দ্রিলার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম পেজকে সচল রেখেছে তাঁর পরিবার। তার আগের ছোট ছোট মুহূর্ত স্মৃতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায় আপলোড করেন দিদি ঐশ্বর্য। নিজের ছোট বোনকে এভাবেই স্মৃতির মধ্যে দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন তারা।

Back to top button