অভিনয়ের লোভ ছিল ছোট থেকেই। কিন্তু বিয়ের পর পর্দায় রোম্যান্স করা যাবে না। তাই নায়িকা হওয়ার প্রথম শর্তেই বাঁধা। কিন্তু অভিনয় তো ভালোবাসা, তাই যেন প্রকারে সেই বিষয়টি ধরে রাখতেই হবে। অগত্যা প্রায় সমবয়সী কিংবা বয়সে বড় নায়কদেরও ‘মা’ হয়ে ওঠেন অনামিকা সাহা। এর জন্য কোনও আক্ষেপ নেই তাঁর।
গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী অনামিকা সাহা। গলব্লাডারে স্টোন হয়েছে তাঁর। ৫ ফেব্রুয়ারি হবে তাঁর অস্ত্রোপচার। এই নিয়ে প্রবল দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। বয়স হয়েছে বলেই দুশ্চিন্তা আরও বেশি গ্রাস করেছে তাঁকে।
এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, “কী যে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। বয়সটাও তো অনেকটাই। তার মধ্য সুগার রয়েছে। আমার কি আর একটা রোগ। এর আগেও ডাক্তার করবে বলেছিল, কিন্তু ওই সুগার-প্রেশার সব বেশি থাকায় তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে আগের থেকে সব কিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাই চিকিৎসক ওই তারিখই দিয়েছেন”।
বয়সের ছাপ পড়েছে শরীরে। এমনকি নুইয়েও পড়ছে। কিন্তু এখনও লাইট ক্যামেরা অ্যাকশন টানে তাঁকে। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেই দূর হয়ে যায় সমস্ত শরীরী খেদ। পেয়ে বসে অভিনয়ের খিদে। তাই তো এখনও। কাজ না থাকলে অবসাদে ভোগেন অনামিকা সাহা। বয়সের ভারে জর্জরিত, তবুও অভিনয়ের ডাক ফেরান না টলিউডের ‘বিন্দু মাসি’।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের মা কিংবা শাশুড়ির চরিত্রে তুমুল জনপ্রিয়তা তাঁর। তারপরেও শঙ্কা ঘিরে ধরেছে তাঁকে। পাছে দিল্লিতে মেয়ের কাছে গেলে যদি অভিনয়ে ভাঁটা পড়ে তাই কলকাতাতেই থাকেন। তাঁর জীবনের একটাই ইচ্ছে যেন কাজ করতে করতেই মৃত্যু হয় তাঁর।