ভাইরাল

৫০ টাকার দৈনিক মুজুরির কর্মী আজ সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ অফিসার!

এক সময় রোজগার বলতে ছিল মাত্র দৈনিক ৫০ টাকা। এক বেকারির কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু স্বপ্ন ছিল অনেক বড়। আর ছিল অদম্য ইচ্ছেশক্তি। স্বপ্ন আর ইচ্ছেশক্তির উপর ভর করে যে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব, সাফল্য লাভ সম্ভব- তাই প্রমাণ করে দেখালেন এক যুবক।

নাম বলবঙ্ক তিওয়ারি, বয়স বেশি নয়, ২৮ বছর। এই বছর ২৮ এর বলবঙ্ক অদম্য জেদ আর ইচ্ছেশক্তির জোরে নিজের স্বপ্নকে পূরণ করে দেখালেন। সম্প্রতি তিনি সেনা শিক্ষাকেন্দ্র থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে সেনায় যোগ দিয়েছেন। ছেলের সেই সাফল্যের দিনে সঙ্গী হয়েছিলেন তাঁর মা। স্বামীর আনন্দের দিনে তাঁর পাশে ছিলেন স্ত্রী রুচিও। মা ও স্ত্রীর পাশাপাশি বলবঙ্ক তিওয়ারির সাফল্যের সাক্ষী হতে সঙ্গী হয়েছিল তাঁর দুধের শিশুকন্যাও।

বিহারের ভোজপুর জেলার আরার সুন্দরপুর বারজা গ্রামের চাষি পরিবারের ছেলে বলবঙ্ক। তাঁদের যৌথ পরিবার। কোনদিনই তেমন আর্থিক সক্ষমতা ছিল না। অভাব ছিল তাঁদের সংসারের নিত্য সঙ্গী। বাবার হাড়ভাঙা খাটুনি বলবঙ্ককে মানসিক যন্ত্রণা দিত। সংসারের বোঝা কমাতেই দশম শ্রেণি পাশ করেই, রোজগারের তাগিদে কাজে নেমে পড়তে হয়েছিল তাঁকে।

বলবঙ্ক জানিয়েছেন, ম্যাট্রিক পাশ করে কাজের সন্ধানে প্রথমে ওড়িশার রাওউরকেল্লায় চলে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রথমে একটা লোহার জিনিসপত্র তৈরির কারখানায় সামান্য টাকার বিনিময়ে কয়েক মাস কাজ করেন। তারপর একটা বেকারিতে দৈনিক ৫ টাকার বিনিময়ে কাজ শুরু করেন। একই সঙ্গে চলছিল পড়াশোনাও। বাড়তি অর্থ উপার্জনের জন্য কাজের সঙ্গে অন্যদের পড়ানোও শুরু করেন তিনি। রাউরকেল্লা থেকেই দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করে, কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন বলবঙ্ক।

বলবঙ্ক জানিয়েছেন, ‘কলেজে পড়ার সময় এক দিন আমার কাকা জানান, দানাপুরে সেনাতে নিয়োগ চলছে। আর দেরি না করে পরীক্ষায় বসলাম। প্রথম বার হয়নি। কিন্তু জেদ চেপে গিয়েছিল দ্বিতীয় বার পাশ করতেই হবে। পাশ করলাম পরের বার। সিপাই পদে ভোপালে পোস্টিং হল।’

এখানেই থেমে যেতে পারতেন বলবঙ্ক। চাকরি তো পেয়েই গিয়েছিলেন। অর্থও আসত সংসারে। কিন্তু এটাই যে, তাঁর লক্ষ্য ছিল না। তাই থেমে যাননি বলবঙ্ক। উচ্চতার শিখরে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যেতেই থাকেন বলবঙ্ক। ভোপালে পোস্টিং থাকার সময় জানতে পারেন, অফিসার হতে গেলে আর্মি ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হতে হবে। সেই পরীক্ষায় পাশও করেন। এরপরই অফিসার হিসেবে কাজ করার দায়িত্বভার তুলে দেওয়া হয় তাঁর কাঁধে। সেই দিনটাই ছিল তাঁর জীবনে সাফল্যকে ছুঁয়ে দেখার দিন। সেই জন্যই তো আজ অদম্য ইচ্ছাশক্তির জেরেই এক সময়ে ৫০ টাকায় কাজ করা বলবঙ্ক ভারতীয় সেনার এক গর্বিত অফিসার। বলবঙ্ক আজ অনেকেরই অনুপ্রেরণা।







Back to top button