টলিউড

আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চেই চার হাত এক হত সব্যসাচী-ঐন্দ্রিলা’র! জানাল অভিনেত্রী’র পরিবার

সত্যিকারের ভালোবাসা কী তা বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন সব্যসাচী-ঐন্দ্রিলা! প্রকৃত ভালোবাসা মানে, সুখে-দুঃখে, ভালোমন্দে প্রিয়জনের পাশে থাকা, তাঁকে ভালোবাসায় ধরে রাখা, তাঁকে ভরসা দেওয়া। তাঁকে এটা বোঝানো যে, ‘হাত বাড়ালেই পাবে ভালোবাসার মানুষকে। ভয় নেই, সঙ্গে আছি’।আর এই ভরসা দেওয়ার কাজটাই নিষ্ঠার সঙ্গে করে গেছেন ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’-এর সকলের প্রিয় ‘বামাক্ষ্যাপা’ ওরফে সব্যসাচী। অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা’র জন্য সব্যসাচী চৌধুরী যা করেছেন তা চোখে আঙুল দিয়ে বারবার দেখিয়ে দেয় প্রকৃত ভালোবাসা কাকে বলে। তাঁদের ভালোবাসা যে কতটা গভীর ছিল বা এই ভালোবাসার শিকর যে কতটা গভীরে হতে পারে, তা তাঁরা ক্রমাগত বুঝিয়ে গেছেন‌।

আজ থেকে ১০ দিন আগে ২০শে নভেম্বর রবিবার ১২:৫৯ মিনিটে প্রয়াত হয়েছেন ঐন্দ্রিলা! মাত্র ২৪ বছর বয়সে প্রয়াত হন এই অভিনেত্রী! তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ টলিউড! তাঁর ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন সবাই! কিন্তু সবার সব প্রার্থনা বিফলে দিয়ে প্রয়াত হন তিনি! উল্লেখ্য, গত ১লা নভেম্বর ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন অভিনেত্রী! তাঁকে হাওড়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়! সেখানেই অস্ত্রপচার হয় অভিনেত্রী’র! প্রথমদিকে অবস্থা এতটা গুরুতর না হলেও অবস্থা অত্যন্ত সংকটপূর্ণ হতে থাকে! দুবার ক্যান্সার’কে হারিয়ে ফিরে এসে সাজিয়ে নিয়েছিলেন নিজের জীবনটা নতুন করে! কিন্তু তার সেই ভালো থাকা বেশি দিনের জন্য স্থায়ী হলো না! ব্রেন স্ট্রোক ও লাগাতার হৃদরোগ  আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন তিনি!

সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের তরফে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে অভিনেত্রী পরিবারের! আর সেখানেই অভিনেত্রীর পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে আগামী বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে চার হাত এক হ‌ওয়ার কথা ছিল ঐন্দ্রিলা-সব্যসাচীর! এখন‌ও ঐন্দ্রিলাকে হারানোর শোকে কাটিয়ে উঠতে পারেনি তাঁর পরিবার! ওই সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রীর বাবা উত্তম শর্মা জানিয়েছেন,ছোট মেয়ের বিয়ের পরিকল্পনাও শুরু করেছিল শর্মা পরিবার।

এই বিষয়ে প্রয়াত অভিনেত্রী’র বাবা জানিয়েছেন, আগামী বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস নাগাদ সব্যসাচী-ঐন্দ্রিলার বিয়েটা দিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল আমার। এমনকী সব্যসাচীর বাবার সঙ্গেও এই নিয়ে কথা হচ্ছিল। তিনি বলেছিলেন, আমাদের বাড়িতে এসে বিয়ে নিয়ে কথা বলবেন’। কান্নাভেজা গলায় শিখা দেবী বলেন, আমায় মেয়ে আর সব্যসাচী ছিল একদম হরিহর আত্মা। আমরা আগামী বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে ওঁদের বিয়ের একটা পরিকল্পনা করেছিলাম। এর মধ্যেই সবকিছু অতীত হয়ে গিয়েছে’। মেয়ে হারিয়ে শোকে পাথর মা’র প্রশ্ন, আমাদের পরিবারের প্রাণ ছিল ও। মেরুদণ্ড ছিল। এখন কী নিয়ে বাঁচব আমরা?’



Back to top button