এক পাহাড় কথা জমে আছে! জন্মদিনে বাবার স্মৃতি হাতড়ে পুরোনো দিনে ফিরলেন স্বস্তিকা

Published on:

এক পাহাড় কথা জমে আছে! জন্মদিনে বাবার স্মৃতি হাতড়ে পুরোনো দিনে ফিরলেন স্বস্তিকা

বয়স ৪০ পেরলেও এখনো ভক্তদের সেনসেশন তিনি। তার স্টাইল,পোশাক, মেকআপ, ব্যক্তিত্ব সবকিছুই একেবারে ব্যতিক্রমী সব সময়। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় শুধুমাত্র অভিনয় দক্ষতার জন্য নয় বরং নিজের স্পষ্টবাদী স্বভাবের জন্যও একই রকম ভাবে জনপ্রিয়। কোন কিছুই রাগ ঢাক না রেখে একেবারে মনের কথা অপপটে বলে ফেলেন তিনি। এবার নিজের বাবাকে নিয়ে আবেগপূর্ন পোস্ট করলেন অভিনেত্রী।

জন্মদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবা সন্তু মুখোপাধ্যায়কে খোলা চিঠি লিখলেন অভিনেত্রী। উজাড় করে দিলেন সব আবেগ। যাবতীয় লুকিয়ে থাকা মনের কথা ব্যক্ত করলেন নিজের লেখায়। আবদার করে বসলেন বাবার কাছে।

   
 ⁠

ফেসবুক একটি ছবি দিয়েছেন তিনি। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বাবাকে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি। ক্যাপশনে তিনি বাবাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, “কোথায় আছো সে তো জানিনা, কে আলমারি থেকে নতুন জামা বের করে জোর করে পরিয়ে দেবে তাও জানিনা। আশা করি কেউ নিশ্চয়ই আছে, আমার মতন করে তোমায় আগলে রেখেছে। প্রতি বছরের মতন, এবারেও নতুন ফতুয়া-লুঙ্গি পোরো। খাদির দোকানে গেলে, গেরুয়া রং এর কোনও কাপড় দেখলেই মনে হয় তোমার জন্য একটা পাঞ্জাবি বানাতে দি, তার পর মুহূর্তেই মনে পড়ে তুমি তো নেই। আজ সন্ধে নামলে দু পাত্তর ব্যালেন্টাইন খেও। কত ভালবাসতে।”

  
 ⁠

স্মৃতির সরণী বেয়ে অভিনেত্রীর সংযোজন, “পৃথিবীর এত জায়গায় যাই, যত ভালো স্কচই কিনে আনি না কেন সেই ব্যালেন্টাইন টাই সেরা। তোমার আর মা এর না থাকাতে বাড়িতে খাওয়া দাওয়া, লোকজন এর আসা যাওয়া, আনন্দ উৎসব প্রায় উঠে গেছে বললেই চলে। ঠিক ওই গান টার মতন – এত আনন্দ আয়োজন সবই বৃথা তোমায় ছাড়া। ১৩ ই জানুয়ারি- এই দিনটা আমার কাছে আজীবন “আমার বাবার জন্মদিন” হয়েই রয়ে যাবে”।

অভিনেত্রীর নিঃশব্দ আর্তনাদরা ফুটে উঠেছে লেখায়। তিনি লিখেছেন, “আর কটা দিন থেকে গেলে পারতে বাবা – না হয় অনেক রাত অব্দি জমিয়ে আড্ডা মারতে মারতে, লোকজন এর গুষ্টি উদ্ধার করতে করতে দু পেগ হুইস্কি খাওয়ার জন্যই রয়ে যেতে। না হয়, ব্রাজিল – আর্জেন্টিনার ম্যাচ দেখে চিৎকার করার জন্য রয়ে যেতে। না হয়, দরবেশ, ক্ষীরকদম্ব, মনোহরা, সীতাভোগ দের জন‍্য রয়ে যেতে। ভাত রুটির শেষ পাতে রোজ একটু মিষ্টি খাওয়ার পাট ও চুকে গেছে। বাড়িতে আর মিষ্টি কেনা হয় না। তোমায় আর একবার দেখার জন্য সব করতে পারি বাবা। তুমি তো ঈশ্বরের কাছে আছো, তুমি ওনাকে বোলো, এই জন্মে হোক বা পরের জন্মে, বা দু জন্মের সন্ধিক্ষণে আমাদের দেখা টা যেন হয়। কত কথা জমে আছে বাবা। এক পাহাড়।”