বিনোদন

এত যাওয়ার বয়স নয়! রাশিদ খানের মৃত্যুতে শোক বিহ্বল হয়ে কী বললেন ঊষা উত্থুপ?

এত যাওয়ার সময় নয়। বড্ড তাড়াতাড়ি চলে গেল। বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী রশিদ খানের মৃত্যুতে শোকগ্রস্ত হয়ে এমনটাই জানিয়েছেন ঊষা উত্থুপ। মাত্র ৫৫ বছরেই প্রয়াত হলেন ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রবাদ প্রতীম গায়ক উস্তাদ রশিদ খান। মঙ্গলবার বেলা ৩.৪৫ নাগাদ পিয়ারলেস হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। ২২ নভেম্বর থেকে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। মঙ্গলবারই তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়।

   

রাশিদ খানের মৃত্যুর খবর পেয়েই সন্ধ্যাবেলা সেখানে ছুটে যান বর্ষীয়ান শিল্পী। চোখের জল বাঁধ মানেনি এদিন। ঊষা উত্থুপ বলেন, “আমরা সবাই এই খবরে শোকাহত, বিধ্বস্ত। কিছু বলার নেই এখন। শুধু বলব, আমাদের সঙ্গীত জগতের সকলে সমবেতভাবে এই দুঃখে ভাগীদার। আর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অন্যতম এক সেরা শিল্পী ছিলেন তিনি। খুবই দুঃখের। আমরা বিধ্বস্ত। বিগেস্ট লস্ট। তাড়াতাড়ি চলে গেল”।

শুধু ঊষা উত্থুপ নন, এদিন একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শেষ দেখা দেখতে এসেছিলেন কিংবদন্তি শিল্পীকে। পন্ডিত অজয় চক্রবর্তীর কাছেও তালিম নিয়েছেন রাশিদ খান। প্রিয় ছাত্রের মৃত্যুতে অজয় চক্রবর্তী বলেন, “ও তো আমার হাতেই তৈরি। এটা তো চলে যাওয়ার বয়স নয়। দেশের সঙ্গীত জগৎ এক গুণী শিল্পীকে হারাল”।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস যান হাসপাতালে। এদিন সন্ধ্যে ছটায় তাঁর দেহ নিয়ে যাওয়া হয় পিস ওয়ার্ল্ডে। এরপর আজ বুধবার সকাল সাড়ে নটা নাগাদ দেহ নিয়ে আসা হবে রবীন্দ্র সদনে। এরপর সেখানে তাঁকে গান স্যালুট দেবে রাজ্য। তারপর সেখান থেকে দেহ যাবে তাঁর বাড়িতে। টালিগঞ্জের কবরস্থানে হবে শেষকৃত্য।

জন্মসূত্রে উত্তরপ্রদেশের বদায়ুর বাসিন্দা ছিলেন তিনি। ১৯৮০ সালের এপ্রিলে ১৪ বছর বয়সে প্রথম কলকাতায় আসেন তিনি। তাঁর বাবা হামিজ রশিদ খানও ছিলেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী। ভীম সেন যোশী বলতেন, রশিদ খানের গান শুনলে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ভবিষ্যত নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়। ২০০৬ সালে পদ্মশ্রী পান, ২০২২-এ পদ্মভূষণ পান। পেয়েছেন বঙ্গবিভূষণও।

প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী রশিদ খান। মঙ্গলবার তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। রাখা হয় অক্সিজেনের সাহায্যে। অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে গেলে তাঁকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)-এর ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

প্রস্টেটে ক্যানসার নিয়ে প্রথম থেকেই ভুগছিলেন তিনি। মাঝে একটু ভালো হলেও বারবার মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণ হতে থাকে। এরফলে ক্রমেই অবস্থার অবনতি হলে মাস খানেক আগে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেই থেকে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে সব মায়া ছিন্ন করে মঙ্গলবার দুপুরে কিংবদন্তি শিল্পী পাড়ি দিলেন অমৃতলোকে।

Back to top button